বিএনপির ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করে বলেছেন, আইভী ১৩ বছর সময় পেয়েও যা যা করতে পারেনি আমাকে নির্বাচিত করলে আমি ৫ বছরে তা করবো। আইভীর সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থান ছিল শুধু একটা পরিবারের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি কখনো কোন কথা বলেন নাই। শুধুমাত্র একটি পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলে উনি আজ দাবি করেন যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলছেন। আর আমি ওই পরিবারের বিরুদ্ধেও কথা বলার পাশাপাশি সব অন্যায় অত্যাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধেও কথা বলেছি। উনার কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও আমি কথা বলেছি।
সোমবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ১৪ নং ওয়ার্ড উকিলপাড়া, কালীরবাজার, ফলপট্টি, চারারগোপ, মেট্রো সিনেমা হল এলাকায় গণসংযোগের সময়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
আগামীতেও তার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান থাকবে দাবি করে সাখাওয়াত বলেন, আইভী নির্বাচনীর বৈতরণী পাড় হওয়ার জন্য কার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সেই বিচারটা জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম। শুধু এইটুকু বলবো, আমি নির্বাচিত হলে এই নগরী থেকে চিরতরে সন্ত্রাস নির্মূল করবো। নারায়ণগঞ্জ শহরে গ্যাস, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা রয়েছে, সিটি এলাকায় এখনো কাচা রাস্তা। উনি (আইভী) ১৩ বছর সময় পেয়েও এ বিষয়গুলো সমাধান করতে পারেন নাই। উনি ব্যর্থ হয়েছেন। আমাকে মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে ৫ বছর সময় দিলে আমি সন্ত্রাস নির্মুল করবো এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলবো। উনার (আইভী) রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নিউজিল্যান্ডের নাগরিক বলে মন্তব্য করে সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, আইভীর স্বামী নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। উনিও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন। নির্বাচন করার জন্য ২০০৩ সালে বিদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে এখানে চলে এসেছেন।
আইভী নিজের দোষ না দেখে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ান বলে দাবি করে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমাদের পরিবার এ শহরে ১৫০ বছর ধরে ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। আমার শিক্ষাজীবন এখানে কেটেছে। আমি আমার ২৫ বছরের পেশাজীবনে এ নারায়ণগঞ্জের মানুষের সঙ্গেই ছিলাম। এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক তাবিথ আওয়ালসহ কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলার নেতাকর্মী সমর্থকরা।
অপর দিকে সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহর এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে প্রচারণা চাললানোর সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।
এ সময় শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই গণজোয়ারে সরকারি দলের প্রার্থী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই সরকারি দলের ভোট ডাকাতি ঠেকাতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মাঠে থেকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। জনগণের ভোট যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার যদি ভোটের উপর হাত দেয় আর ভোট ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।
শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা কবির খান, আব্দুস সবুর খান সেন্টু, মনির হোসেন খান, মোবারক হোসেন, শাহজাহান সরকার, হাজী মনির হোসেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা শেখ মাগফুর ইসলাম পাপন, শরিফুল ইসলাম শাফিন, রায়হান সরকার, লিংরাজ খান, হিরণ মল্লিক প্রমুখ।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই