যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চীন নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বেইজিং। এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক হুমকিতে পড়বে বলেও সতর্ক করেছে চীন। বিশ্লেষকেরা বলছেন তাওয়ানকে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দরকষাকষির কৌশল হিসেবে নিয়েছেন ট্রাম্প।

তাইওয়ানকে অখণ্ড চীনের অংশ মনে করার নীতিই এক চীন নীতি। এই নীতি সমর্থন প্রশ্নে ১৯৭২ সালে চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বৈঠকে ঐকমত্য হয়।

পরবর্তী সময়ে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেও এক চীন নীতি মেনে চলেছেন সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন চীনের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় না পেলে এ নীতি বজায় রাখার কোনো কারণ নেই।

প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখালে প্রশ্নের মুখে পড়বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেছেন, “তাইওয়ান ইস্যু চীনের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন, যা চীনের মূল স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এক চীন নীতিতে অটল থাকা চীন-মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নের রাজনৈতিক ভিত্তি। এক্ষেত্রে আপস করলে বা বিঘ্ন ঘটালে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রশ্নের মুখে ফেলবে”।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতেও কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ান-ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে সবাই শেষপর্যন্ত চীনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন উ জিনবো বলেছেন, “আমার মনে হয় এটি ট্রাম্পের আলোচনার কৌশল। কারন তিনি জানেন তাইওয়ান অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু, যেটি নিয়ে চীন সবসময় উদ্বিগ্ন। ফলে একে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে চীনের কাছ থেকে বাণিজ্যে কিছু ফায়দা তুলতে চাইছেন তিনি”।

মূলত তিনটি কারণে এক চীন নীতি সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলো হলো বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাইওয়ানকে রক্ষা ও সহযোগিতা করে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা। – See more at: http://www.independent24.tv/details/1573#sthash.TQhrPqrU.dpuf

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই