জনগণের মতামত না নিয়েই ঢাকা ওয়াসার পানির বিল বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। তাদের দাবি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের পর পানির বাড়তি বিল বেশ বিড়ম্বনা তৈরি করবে। বছরে একাধিকবার এ দাম বাড়ানোর ফলে বাসাভাড়া বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা তাদের।

ক্যাব বলছে-স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মূল্য নির্ধারণ না হলে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, ওয়াসার দাবি-পানির মূল্য বাড়ানো হয়নি বরং সরকারের অনুমোদন নিয়েই উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

রাজধানীর নয়াটোলার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা। একমাসের ব্যবধানে তার বাড়ির পানির বিল হাজার টাকারও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

শারমিন বলেন, ভাড়াটিয়ার  থেকে এই টাকা নেয়া হয়না। কারণ হিসেবে বলেন, মাসে মাসে তো ভাড়া বাড়ানো সম্ভব নয়।

শুধু তিনিই নন, রাজধানীর সাড়ে তিনলাখ মিটারধারী গ্রাহকের কেউই বিলের কপি হাতে পাওয়ার আগে জানেন না, সম্প্রতি আবাসিকে প্রতি একহাজার লিটারে ১ টাকা ৫১ পয়সা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য তিন টাকা বাহাত্তর পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

নাগরিকরা বলেন, না বলে এই বিল বাড়ানো হয়েছে। এতে ঘর ভাড়া বাড়বে বলে চিন্তিত তারা।

প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বিল বাড়ানোর কথা থাকলেও এ বছর দু দফায় আবাসিকে ২২ ও শিল্প-বাণিজ্যিকে ১৮ শতাংশ বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব মনে করে-এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে গণশুণানি করা প্রয়োজন।

তারা বলেন,  একটা তামাসার মত ইচ্ছানুযায়ী দাম বাড়ানো হচ্ছে। নগরবাসীদের দাবি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই দাম বাড়ানো হোক বলে জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা ওয়াসার দাবি-ঋণ পরিশোধ ও উৎপাদন খরচের সাথে সমন্বয় করতে নেয়া হয়েছে এমন পদক্ষেপ।

তারা বলেন, ভাড়ার টাকা শোধ করতে হলে পানি দিয়ে শোধ করতে হবে। এজন্য পানির দাম মাঝে মাঝে বাড়ানো হয় বলে জানান তারা। সরকারের অনুমোদন নিয়ে এটা করা হয়েছে বলে জানান তারা।

বর্তমানে প্রতি একহাজার লিটার পানির দাম আবাসিকে ১০ টাকা ও বাণিজ্যিক খাতে ৩২ টাকা।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই